Kitab

আল ওয়াক্বিয়া

Chapter 56, 96 verses

  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
জহুরুল হক

যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,

জহুরুল হক

এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।

জহুরুল হক

এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।

জহুরুল হক

যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।

জহুরুল হক

আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,

জহুরুল হক

ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।

জহুরুল হক

আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।

জহুরুল হক

যথা ডান দিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!

জহুরুল হক

আর বাঁদিকের দল, - - কেমনতর এই বাঁদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!

জহুরুল হক

আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,

আবদুস শহীদ নাসিম

আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।

জহুরুল হক

এরাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,

জহুরুল হক

আনন্দময় উদ্যানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

জহুরুল হক

কারুকার্যময় সিংহাসনে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।

জহুরুল হক

তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।

জহুরুল হক

তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,

জহুরুল হক

পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।

আবদুস শহীদ নাসিম

পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।

জহুরুল হক

তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।

জহুরুল হক

আর ফল - মূল যা তারা পছন্দ করে;

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,

জহুরুল হক

আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,

জহুরুল হক

আর আয়তলোচন হূরগণ - -

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)

জহুরুল হক

আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,

জহুরুল হক

যা তারা করতো তার পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।

জহুরুল হক

তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।

জহুরুল হক

শুধু এই কথা ছাড়া - - ''সালাম! সালাম!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।

জহুরুল হক

আর ডানদিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!

জহুরুল হক

কাঁটা বিহীন সিদরাহ - গাছের নীচে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,

জহুরুল হক

আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,

আবদুস শহীদ নাসিম

কাঁদিভরা কলার বাগানে,

জহুরুল হক

আর সুদূরবিস্তৃত ছায়া,

আবদুস শহীদ নাসিম

বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,

জহুরুল হক

আর উছলে ওঠা পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

সদা বহমান পানির মধ্যে,

জহুরুল হক

আর প্রচুর পরিমাণে ফলমূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,

জহুরুল হক

ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।

জহুরুল হক

আর উঁচুদরের গালিচা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,

জহুরুল হক

আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,

জহুরুল হক

সোহাগিনী, সমবয়স্কা, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,

জহুরুল হক

দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

ডানদিকের লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।

জহুরুল হক

কিন্তু বামপন্থীদল - - কেমনতর এই বামপন্থী দল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!

জহুরুল হক

উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,

জহুরুল হক

আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,

জহুরুল হক

শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।

জহুরুল হক

অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে

জহুরুল হক

আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।

জহুরুল হক

আর তারা বলত - - ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

জহুরুল হক

এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,

জহুরুল হক

''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে - ক্ষণে,

আবদুস শহীদ নাসিম

একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,

জহুরুল হক

''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!

জহুরুল হক

''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,

জহুরুল হক

''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!

জহুরুল হক

''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।

জহুরুল হক

''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।

জহুরুল হক

এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

জহুরুল হক

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?

জহুরুল হক

তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - যা তোমরা স্খলন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

জহুরুল হক

তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

জহুরুল হক

আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই

জহুরুল হক

যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।

জহুরুল হক

আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?

জহুরুল হক

তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

জহুরুল হক

তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড় - কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)

জহুরুল হক

''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।

জহুরুল হক

''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’

জহুরুল হক

তোমরা যে পানি পান কর সে - সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?

জহুরুল হক

তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

জহুরুল হক

আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।

জহুরুল হক

অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।

জহুরুল হক

না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।

জহুরুল হক

এক সুরক্ষিত গ্রন্থে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।

জহুরুল হক

কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত - পবিত্র ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।

জহুরুল হক

এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।

জহুরুল হক

তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?

জহুরুল হক

এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?

জহুরুল হক

তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,

জহুরুল হক

এবং তোমরা যে - সময়ে তাকিয়ে থাকো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,

জহুরুল হক

আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।

জহুরুল হক

যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,

জহুরুল হক

তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,

জহুরুল হক

তাহলে আয়েশ - আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।

জহুরুল হক

আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,

জহুরুল হক

তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে - - ''তোমার প্রতি সালাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,

জহুরুল হক

তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,

জহুরুল হক

এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জাহান্নামের দহন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।

জহুরুল হক

সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme