হে প্রিয় পোশাক - পরিহিত!
আল মুদ্দাসসির
Chapter 74, 56 verses
ওঠো এবং সতর্ক করো,
আর তোমার প্রভু - - মাহাত্ম্য ঘোষণা করো,
আর তোমার পোশাক - - তবে পবিত্র করো,
আর কদর্যতা - - তবে পরিহার করো,
আর অনুগ্রহ করো না বেশি পাবার প্রত্যাশায়,
আর তোমার প্রভুর জন্য তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও।
তারপর যখন শিঙায় আওয়াজ দেওয়া হবে,
সেটি তবে হবে, সেই দিনটি, এক মহাসংকটের দিন - -
অবিশ্বাসীদের উপরে; আরামদায়ক নয়।
ছেড়ে দাও আমাকে ও তাকে যাকে আমি সৃষ্টি করেছি এককভাবে,
আর তার জন্য আমি বিপুল ধনসম্পদ দিয়েছিলাম,
আর সন্তানসন্ততি প্রত্যক্ষ অবস্থানকারী,
আর তার জন্য আমি সহজ করে দিয়েছিলাম স্বচ্ছন্দভাবে,
তারপরেও সে চায় যে আমি যেন আরো বাড়িয়ে দিই!
কখনো নয়! কেননা সে আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে ঘোর বিরুদ্ধাচারী।
আমি তার উপরে আনব এক ক্রমবর্ধমান আঘাত।
কেননা নিশ্চয় সে ভাবনাচিন্তা করল এবং মেপেজোখে দেখল।
সুতরাং সে নিপাত যাক! কেমনতর সে যাচাই করেছিল!
পুনশ্চ সে নিপাত যাক! কেমন করে সে যাচাই করছিল!
সে আবার তাকিয়ে দেখল,
তারপর সে ভ্রকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল,
তারপর সে পিছিয়ে গেল ও বুক ফুলিয়ে এগিয়ে এল,
তারপর বললে - - ''এ বরাবর চলে আসা জাদু বৈ তো নয়!
''এ একজন মানুষের কথা বৈ তো নয়।’’
আমি শীঘ্রই তাকে ফেলব জ্বালাময় আগুনে।
আর কী তোমাকে বোঝাবে জ্বালাময় আগুনটা কি?
তা কিছুই বাকী রাখে না, আর কিছুই ছেড়ে দেয় না,
মানুষকে একেবারে ঝলসে দেবে,
তার উপরে রয়েছে ''উনিশ’’।
আর আমরা ফিরিশ্তাদের ছাড়া আগুনের প্রহরী করি নি, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তাদের পরীক্ষারূপে ছাড়া আমরা এদের সংখ্যা নির্ধারণ করি নি, যেন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছিল তাদের দৃঢ়প্রত্যয় জন্মে, আর যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ঈমান যেন বর্ধিত হয়, আর যাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে ও যারা তারা যেন সন্দেহ না করে, আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে ও যারা অবিশ্বাসী তারা যেন বলতে পারে - - ''এই রূপকের দ্বারা কী বোঝাতে চাইছেন?’’ এইভাবে বিভ্রান্ত করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, এবং পথনির্দেশ দেন যাকে তিনি চান। আর তিনি ছাড়া আর কেউ তোমার প্রভুর বাহিনীকে সম্যক জানে না। বস্তুত এটি মানবকুলের জন্য এক সতর্কীকরণ বৈ তো নয়।
না! ভাবো চাঁদের কথা;
আর রাতের কথা যখন তার অবসান ঘটে।
আর প্রভাতকালের কথা যখন তা হয় আলোকোজ্জ্বল।
নিঃসন্দেহ এটি অতি বিরাট এক ব্যাপার - -
মানুষের জন্য সতর্কীকরণরূপে,
তোমাদের মধ্যের তার জন্য যে আগবাড়তে চায়, অথবা পেছনে থাকতে চায়।
প্রত্যেক সত্ত্বাই জামিন থাকবে যা সে অর্জন করে তার জন্য, - -
ডানদিকের লোকেরা ব্যতীত,
জান্নাতে, তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে - -
অপরাধীদের সম্পর্কে;
''কিসে তোমাদের নিয়ে এসেছে জ্বালাময় আগুনে?’’
তারা বলবে - - ''আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,
''আর আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতে চাইতাম না;
''বরং আমরা বৃথা তর্ক করতাম বৃথা তর্ককারীদের সঙ্গে,
''আর আমরা বিচারের দিনকে মিথ্যা বলতাম, - -
''যতক্ষণ না অবশ্যাম্ভাবী আমাদের কাছে এসেছিল।’’
ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো কাজে আসবে না।
তাদের তবে কি হয়েছে যে তারা অনুশাসন থেকে ফিরে চলে যায়,
যেন তারা ভীত - ত্রস্ত গাধার দল,
পালিয়ে যাচ্ছে সিংহের থেকে?
বস্তুত তাদের মধ্যের প্রত্যেকটি লোকই চায় যে তাকে যেন দেওয়া হয় খোলামেলা কাগজের তাড়া।
কখনো না। তারা কিন্ত পরকালের ভয় করে না।
কক্ষনো না! এটি নিশ্চয়ই এক অনুশাসন।
সুতরাং যে কেউ চায় সে এটি স্মরণ করুক।
আর তারা মনোনিবেশ করবে না যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ভক্তি করার যোগ্য পাত্র এবং তিনিই পরিত্রাণের যথার্থ অধিকারী।